হামজা চৌধুরীর উত্থান: এক ফুটবল তারকার গল্প

প্রতিভা, পরিশ্রম আর স্বপ্ন মিলিয়ে বুনে গেছে এক গল্প—হামজা চৌধুরীর ফুটবল যাত্রা। শৈশবে শুরু হয়েছিল তার পথচলা, লেস্টার সিটির আলোয় বিকশিত হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু রক্তের টান, পূর্বপুরুষের ডাকে, একদিন ফিরতেই হলো তার আপন ভুবনে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের মোড় ঘুরিয়ে এখন তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের গর্ব, এক নতুন অধ্যায়ের নায়ক।
হামজা চৌধুরীর উত্থান: এক ফুটবল তারকার গল্প
বাংলাদেশি শিকড় আর ব্রিটিশ সংস্কৃতির মিশেলে গড়ে ওঠা এই ফুটবল যোদ্ধা লেস্টার সিটির সবুজ মাঠে নিজের নাম লিখিয়েছেন সোনার হরফে। তিনি শুধু একজন ফুটবলার নন, তিনি এক অনুপ্রেরণা—বাংলাদেশের স্বপ্নের এক নতুন দিগন্ত! এখন সময়, বিশ্ব দেখবে বাংলাদেশের এক নতুন বীরের উত্থান! 🌟⚽🔥

হামজা চৌধুরী কে?

হামজা দেওয়ান চৌধুরী (জন্ম: ১ অক্টোবর ১৯৯৭) একজন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ পেশাদার ফুটবল খেলোয়াড়। তার মা বাংলাদেশি এবং বাবা গ্রানাডিয়ান। বাংলাদেশে ইউরোপিয়ান ফুটবলপ্রেমীদের কাছে তিনি বেশ পরিচিত নাম। লেস্টার সিটির যুব দল থেকে উঠে এসে বর্তমানে ক্লাবের মূল দলে নিয়মিত খেলছেন এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার।

তিনি ইংল্যান্ডের ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপের ক্লাব শেফিল্ড ইউনাইটেডের হয়ে খেলেন, যেখানে তিনি লেস্টার সিটি থেকে ধারে রয়েছেন। এছাড়াও, তিনি বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। মূলত রক্ষণাত্মক মধ্যমাঠের খেলোয়াড় হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি মাঝেমধ্যে কেন্দ্রীয় মধ্যমাঠেও খেলেন।

হামজা চৌধুরী এর ব্যক্তিগত জীবন ও পারিবারিক ইতিহাস

হামজা চৌধুরী ইংল্যান্ডের লেস্টারশায়ারের লাফবারায় জন্মগ্রহণ করেন। হামজার মা রাফিয়া চৌধুরী বাংলাদেশের হবিগঞ্জের বাহুবল উপজেলার স্নানঘাট ইউনিয়নের দেওয়ানবাড়ি গ্রামের মেয়ে।। তার সৎ পিতাও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। ছোটবেলায় হামজা প্রায়ই গ্রামের বাড়িতে যেতেন। সে সময়কার স্মৃতি এখনও তাকে আবেগাপ্লুত করে। তিনি বলেন,

"বাংলাদেশে আমি যা খুশি তাই করতে পারতাম। রাত ১০টায় ছোট ছোট বাচ্চারা রাস্তায় ঘুরে বেড়াতো। আমি বাংলা বলতে পারি—এটা জেনে সবাই অবাক হতো।"

ধর্মীয় বিশ্বাস

হামজা ইসলাম ধর্মে বিশ্বাসী। ছোটবেলায় স্কুলের পাশাপাশি তিনি ও তার ছোটবোন কোরআন শিক্ষালয়ে গিয়েছেন। এখনো মাঠে নামার আগে আয়াতুল কুরসি পড়েন এবং মায়ের শেখানো ছোট ছোট দোয়াগুলো মনে করেন।

তার মা সম্পর্কে হামজা বলেন,

"আমার মা অনেক শক্তিশালী নারী। তিনি আমাকে শিখিয়েছেন, কীভাবে কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে হয়।"

আলাদা পরিচিতি

হামজার আরেকটি বড় পরিচিতি হলো তার ঝাকড়া চুল। তিনি বলেন,

"আমি ছোটবেলায় চুল কাটতে একেবারেই পছন্দ করতাম না। মা জোর করে নিয়ে যেতেন। এখন আমি চুল বড় হতে দিই।"

বাংলাদেশ ও সংস্কৃতি

প্রতি বছরই তিনি বাংলাদেশে আসতেন, দুই-তিন সপ্তাহ থাকতেন। বাংলাদেশের সংস্কৃতি, ঐতিহ্যের সঙ্গে গভীরভাবে পরিচিত হামজা বলেন,

"বাংলাদেশ আমাকে বিনয়ী করে তোলে। বিভিন্ন দেশ ঘুরে বুঝি, পৃথিবীর মানুষ কীভাবে একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত।"

হামজা চৌধুরী এর ক্লাব ক্যারিয়ার

লেস্টার সিটি

হামজা চৌধুরী তার ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু করেন লেস্টার সিটির যুব একাডেমিতে ২০১১ সালে। মাত্র ১৬ বছর বয়সে তিনি ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাবের নজরে আসেন। ২০১৫ সালে তিনি লেস্টার সিটির মূল দলে অন্তর্ভুক্ত হন।

২০১৭ সালের ১৯ মার্চ তিনি লেস্টার সিটির হয়ে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন, যেখানে তারা লিভারপুলের বিপক্ষে ইএফএল কাপে জয়লাভ করে। লেস্টার সিটির হয়ে তিনি ৯১টি ম্যাচ খেলেছেন এবং একটি গোল করেছেন।

ধারে খেলোয়া ক্যারিয়ার

  • বার্টন আলবিয়ন (২০১৬-২০১৭): বার্টন আলবিয়নের হয়ে ধারে খেলে ১৩টি ম্যাচ খেলেন।
  • ওয়াটফোর্ড (২০২২-২০২৩): ওয়াটফোর্ডে ধারে খেলেন এবং ৩৬টি ম্যাচ খেলেন।
  • শেফিল্ড ইউনাইটেড (২০২৫-বর্তমান): ২০২৫ সালে লেস্টার সিটি থেকে ধারে শেফিল্ড ইউনাইটেডে যোগ দেন।

হামজা চৌধুরী এর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার

ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দল

হামজা ২০১৮ সালে ইংল্যান্ড অনূর্ধ্ব-২১ দলের হয়ে প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন এবং ৭টি ম্যাচ খেলেন। তিনি ২০১৯ উয়েফা ইউরোপীয় অনূর্ধ্ব-২১ চ্যাম্পিয়নশিপেও অংশ নেন। তবে, ইংল্যান্ড জাতীয় দলে খেলার স্বপ্ন পূরণ না হওয়ায় তিনি তার বাংলাদেশি শিকড়ের প্রতি আগ্রহী হন।

বাংলাদেশ জাতীয় দল

২০২৪ সালের ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন ঘোষণা করে যে হামজা চৌধুরী বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার আনুষ্ঠানিক অনুমতি পেয়েছেন। এরপর, ২০২৪ সালের ২৩ আগস্ট তিনি বাংলাদেশি পাসপোর্ট পান এবং ইংলিশ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন তাকে অনাপত্তিপত্র (NOC) প্রদান করে।

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে বাংলাদেশ দলের হয়ে তিনি প্রথমবারের মতো মাঠে নামেন, যা বাংলাদেশের ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এক বিশাল অর্জন।

বিতর্ক ও সমালোচনা

২০১৯ সালে একটি পুরনো টুইটের কারণে তাকে সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয় এবং এফএ তাকে ৫,০০০ ইউরো জরিমানা করে। এছাড়া, ২০২১ সালে এফএ কাপ জয়ের পর তিনি ফিলিস্তিনের পতাকা উড়িয়ে সমর্থন জানিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন।

হামজা চৌধুরী ও অলিভিয়ার অজানা কাহিনী: ভালোবাসা, মানবতা ও ফুটবলের সংযোগ

হামজা চৌধুরী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত একজন ব্রিটিশ ফুটবলার, যিনি ইংল্যান্ডের শীর্ষ ফুটবল লিগে তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে চলেছেন। ফুটবলের প্রতি তার দারুণ আবেগ, কঠোর পরিশ্রম এবং অধ্যবসায় তাকে এই জগতে প্রতিষ্ঠিত করেছে। তবে, তার জীবনের সফলতার পেছনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নাম রয়েছে—তার স্ত্রী অলিভিয়া চৌধুরী।

ভালোবাসার এক অনন্য গল্প

২০১৬ সালে হামজা চৌধুরী বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন অলিভিয়া ফাউন্টেনের সঙ্গে। বিয়ের পর অলিভিয়া ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং তার নাম পরিবর্তন করে অলিভিয়া চৌধুরী রাখেন। তার এই ধর্মান্তরের পেছনে ছিল ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, এবং আত্মিক শান্তি। অলিভিয়া একজন পেশাদার ইন্টেরিয়র ডিজাইনার ছিলেন, তবে বিয়ের পর তিনি তার জীবনের একটি নতুন অধ্যায় শুরু করেন।

মানবিকতা ও সমাজসেবায় অবদান

শুধু একজন আদর্শ জীবনসঙ্গী হিসেবেই নয়, অলিভিয়া সমাজসেবায়ও দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। তার অনুপ্রেরণায় হামজা চৌধুরী হবিগঞ্জে একটি এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেন, যা অসহায় শিশুদের আশ্রয় ও শিক্ষার ব্যবস্থা করে। অলিভিয়া বিশ্বাস করেন, মানবতার সেবা করাই মানুষের প্রকৃত দায়িত্ব। তিনি বলেন, "আমি মনে করি, সহানুভূতি ও ভালোবাসা দিয়েই আমরা সমাজে পরিবর্তন আনতে পারি।"

সন্তানদের প্রতি ধর্মীয় মূল্যবোধ

হামজা ও অলিভিয়া চৌধুরীর তিন সন্তান রয়েছে—এক কন্যা ও দুই পুত্র। তাদের নাম রাখা হয়েছে দেওয়ান এনায়ে হোসেন চৌধুরী, দেওয়ান ঈসা হোসেন চৌধুরী এবং দেওয়ান ইউনুস হোসাইন চৌধুরী। নবীদের নামে নামকরণের মাধ্যমে তারা তাদের ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন।

ফুটবল ও পারিবারিক বন্ধনের প্রভাব

অনেকে মনে করেন, ফুটবলের প্রতি হামজা চৌধুরীর প্রতিশ্রুতি ও সাফল্যের পেছনে তার স্ত্রী অলিভিয়ার ভূমিকা অনস্বীকার্য। যেভাবে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও তার স্ত্রীর সম্পর্ক ফুটবলের প্রতি মানুষের ভালোবাসাকে অনুপ্রাণিত করেছে, তেমনি হামজা ও অলিভিয়ার সম্পর্ক ফুটবলপ্রেমীদের জন্য নতুন অনুপ্রেরণা সৃষ্টি করেছে।

তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা

হামজা ও অলিভিয়ার জীবনকাহিনী আমাদের শেখায় যে, পারস্পরিক ভালোবাসা, শ্রদ্ধা ও মানবিকতার মাধ্যমে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। তাদের সম্পর্ক ও সমাজসেবামূলক কাজ বাংলাদেশি তরুণ প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

হামজা চৌধুরী ও বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ: নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন

বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ জাতীয় দলে অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে। ইংলিশ ক্লাব লেস্টার সিটিতে খেলা এই প্রতিভাবান ফুটবলার তার ইউরোপীয় অভিজ্ঞতা, ট্যাকটিক্যাল বুদ্ধিমত্তা ও মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণের দক্ষতা দিয়ে জাতীয় দলের পারফরম্যান্সে বড় পরিবর্তন আনতে পারেন। 

বাংলাদেশ ফুটবলে তার সংযোজন শুধু প্রযুক্তিগত উন্নতি নয়, বরং এটি দেশের তরুণ ফুটবলারদের জন্য এক অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠতে পারে।

হামজা চৌধুরীর অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা বাংলাদেশের ফুটবলে কেমন প্রভাব ফেলতে পারে?

ইউরোপীয় ফুটবলের অভিজ্ঞতা

হামজা চৌধুরী ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের (EPL) মতো বিশ্বের অন্যতম প্রতিযোগিতামূলক লিগে খেলার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তার এই অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলকে আন্তর্জাতিক মানের ফুটবল খেলার কৌশল ও পরিকল্পনা তৈরিতে সহায়তা করবে।

বাংলাদেশের মিডফিল্ডের উন্নতি

জাতীয় দলের অন্যতম দুর্বলতা হলো মিডফিল্ড নিয়ন্ত্রণ। হামজার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের মিডফিল্ডের শক্তি বৃদ্ধি করতে পারে, যা দলকে প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানো ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রেরণা

হামজা চৌধুরীর মতো একজন আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়ের বাংলাদেশ দলে অন্তর্ভুক্তি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের বিদেশে খেলার স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করবে এবং ফুটবল ক্যারিয়ার গড়ার প্রতি তাদের আগ্রহ বাড়াবে।

বাংলাদেশ ফুটবলে পেশাদারিত্ব বৃদ্ধি

হামজা চৌধুরীর মতো প্রিমিয়ার লিগের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফুটবলার জাতীয় দলে এলে দলের প্রশিক্ষণ পদ্ধতি, পেশাদার মনোভাব এবং আন্তর্জাতিক ফুটবল স্ট্র্যাটেজির উন্নতি ঘটবে।

বাংলাদেশ ফুটবলের ভবিষ্যৎ: কী পরিবর্তন আসতে পারে?

  • ✅ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ দলের উন্নতি
  • ✅ ট্যাকটিক্যাল ফুটবলের প্রতি বেশি গুরুত্ব
  • ✅ নতুন প্রতিভাবান ফুটবলারদের উঠে আসার সুযোগ
  • ✅ বাংলাদেশ ফুটবলে বিনিয়োগ ও স্পন্সরশিপের আকর্ষণ বৃদ্ধি

হামজা চৌধুরীর সাথে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এর চুক্তি

হামজা চৌধুরী মূলত বাংলাদেশের হয়ে খেলার জন্য একটি বিশেষ চুক্তির আওতায় আসছেন। যদিও তার বেতন সংক্রান্ত নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে জানা গেছে যে তিনি আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর জন্য পার ম্যাচ বেসিসে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন।
  • 🔹 চুক্তির ধরন: পার ম্যাচ চুক্তি (Per Match Contract)
  • 🔹 বেতন: আনুষ্ঠানিকভাবে জানা যায়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে এটি বাংলাদেশ জাতীয় দলের অন্যান্য খেলোয়াড়দের তুলনায় বেশি হবে
  • 🔹 যোগদানের পদ্ধতি: ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, যেহেতু তার মা বাংলাদেশি, তাই তিনি বাংলাদেশ জাতীয় দলের হয়ে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছেন

FAQ

হামজা চৌধুরীর জন্ম কোথায়?

লাফবোরো, ইংল্যান্ড (Loughborough, England)।

হামজা চৌধুরীর জাতীয়তা কী?

ব্রিটিশ। তবে তার পারিবারিক শিকড় বাংলাদেশ এবং গ্রানাডায়।

হামজা চৌধুরীর মা-বাবার নাম কী?

  • মা: রাফিয়া চৌধুরী (বাংলাদেশি)
  • বাবা: গ্রানাডিয়ান (আসল নাম পাবলিকলি জানা যায়নি)
  • সৎ বাবা: মুরশিদ

হামজা চৌধুরীর স্ত্রী কে?

তার স্ত্রীর নাম শ্যানন গোল্ডস্মিথ (Shannon Goldsmith)। তাদের এক কন্যা সন্তানও আছে।

হামজা চৌধুরীর ধর্ম কী?

ইসলাম। হামজা চৌধুরী মুসলিম। তিনি ইসলাম ধর্ম মেনে চলেন এবং বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে তার ধর্মীয় বিশ্বাসের কথা উল্লেখ করেছেন।

হামজা চৌধুরীর বয়স কত?

তিনি জন্মগ্রহণ করেছেন ১ অক্টোবর ১৯৯৭ সালে। সেই অনুযায়ী ২০২৫ সালে তার বয়স ২৭ বছর।

হামজা চৌধুরীর উচ্চতা কত?

1.78 মিটার বা 5 ফুট 10 ইঞ্চি।

হামজা চৌধুরী কোন ক্লাবে খেলে?

লেস্টার সিটি (Leicester City FC)। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব লেস্টার সিটির হয়ে খেলেন তিনি। তবে সাম্প্রতিক সময়েও তিনি ধারে অন্য ক্লাবে খেলেছেন, যেমন ওয়াটফোর্ড (Watford)।

হামজা চৌধুরী কোন পজিশনে খেলে?

ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার (Defensive Midfielder)।

হামজা চৌধুরীর জার্সি নাম্বার কত?

তিনি সাধারণত ৪ বা ১৭ নাম্বার জার্সি পরে খেলেন, তবে ক্লাব অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

হামজা চৌধুরীর বেতন কত?

তার সাপ্তাহিক বেতন প্রায় £20,000 থেকে £25,000 পাউন্ড (আনুমানিক)। তবে সময় এবং চুক্তি অনুযায়ী এই অঙ্ক পরিবর্তিত হতে পারে।

Hamza Choudhury কত টাকার মালিক?

তার নেট মূল্য (Net Worth) প্রায় 3 মিলিয়ন মার্কিন ডলার (USD) এর কাছাকাছি বলে ধারণা করা হয়। তবে এটি আনুমানিক।

শেষ কথা

হামজা চৌধুরীর বাংলাদেশ জাতীয় দলে যোগদান শুধু একজন ফুটবলারের প্রত্যাবর্তন নয়, বরং এটি এক নতুন ভোরের সূচনা। তার পায়ের জাদু, অভিজ্ঞতার আলো আর নেতৃত্বের ছায়ায় বাংলাদেশ ফুটবল এক নতুন দিগন্তের স্বপ্ন দেখছে। লেস্টারের সবুজ গ্যালারি থেকে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামের লাল-সবুজ রঙে রাঙানোর এ যাত্রা শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, বরং একটি জাতির গর্বের অধ্যায়।

তবে পথচলা এখনো শেষ হয়নি, বরং শুরু। তার অভিজ্ঞতা ও দক্ষতাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ ফুটবল কি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারবে? সময়ই দেবে সে উত্তর। কিন্তু একটুকু তো নিশ্চিত—হামজার এই আগমন বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসে এক স্বর্ণালী অধ্যায় হয়ে থাকবে।

আপনার মতামত কী? "হামজা চৌধুরীর উত্থান: এক ফুটবল তারকার গল্প" সম্পর্কে আপনার ভাবনা আমাদের জানাতে ভুলবেন না! ⚽🇧🇩🔥

ধন্যবাদ
সামরিন ইনফো।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

সামরিন ইনফো এর নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url